রহস্যময় বিটকয়েন।। বিটকয়েন কী?



#বিটকয়েন_কী?
 বলা যায় একধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি। আর হ্যা ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো এমন একধরনের ডিজিটাল মুদ্রা বা টাকা ব্যবস্থা যার একবারেই কোনো ফিজিক্যাল বা বাস্তব রূপ নেই। বিটকয়েন বর্তমান সময়ে বিশ্বের বা দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি ।


যেভাবে এলো এই বিটকয়েন
২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট। এই দিনে ইন্টারনেট জগতে‘bitcoin.com’ নামের একটি ওয়েবসাইটের ডোমেইন রেজিস্টার করা হয়। এ বছরেরই নভেম্বর মাসে ‘সাতোশি নাকামোতো’ ছদ্মনামে এক ব্যক্তি বা একটি দল ‘Bitcoin: A Peer-to-Peer Electronic Cash System’ নাম করে একটি গবেষণাপত্র অনলাইনে প্রকাশ করে। আর এই গবেষণাপত্রটিতেই সর্বপ্রথম বিটকয়েন সম্পর্কে সবাইকে ধারণা দেওয়া হয়।বেস কিছু বছর আগে ,২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে সাতোশি নাকামোতো বিটকয়েন তৈরি করার সফটওয়্যারের কোড অনলাইনে রিলিজ করেন।তাদের মাধ্যেমেই তৈরি হয় বিটকয়েন ‘মাইনিং’ এর সফটওয়্যার। বিটকয়েন মাইনিং হলো এমন এক কমপ্লেক্স প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বিটকয়েন তৈরি করা হয়ে থাকে। সেই দুই হাজার নয় সালের  জানুয়ারি মাসেই সাতোশি বিশ্বের প্রথম বিটকয়েন তৈরি করেন। অনেকবার বার বহুজনকে এই সাতোশি নাকামোতো সন্দেহে গ্রেফতার করা হলেও প্রকৃত সাতোশি নাকামোতো কে, বা এই নামের পেছনে কে বা কারা আছে অথবা আসলেই কেউ আছে কিনা তা আজও জানা সম্ভব হয় নি।


যেভাবে করা হয় বিটকয়েন মাইনিং
বিটকয়েন মাইনিং একটি জটিল ব কমপ্লেক্স প্রক্রিয়া। একটি বা একাধিক  নির্দিষ্ট মাইনিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা হয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার। কম্পিউটারের সিপিইউ আর জিপিইউ ব্যবহার করে জটিল এবং কঠিন কিছু গাণিতিক এলগরিদমের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রত্যেকটি বিটকয়েন লেনদেন করা হলে তা ব্লকচেইনে লিপিবদ্ধ হয়। এই সময় বিটকয়েন মাইনাররা মাইনিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনের বৈধতা নির্ণয় করেন। আর এর মাধ্যে বা এই সময়ই একটি নতুন বিটকয়েন তৈরি হয়।
বিটকয়েন লেনদেন করা  এবং নতুন বিটকয়েন তৈরি করার এই সমস্ত প্রক্রিয়াটিই ঘটে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে। ফলে এতে কোনো ধরনের ছলচাতুরী কিংবা অন্যকোন প্রতারণার সম্ভবনা থাকে না। উভয় পক্ষেরই পরিচয় থাকে গোপন।


বিটকয়েনের কিছু অসুবিধা

· বিটকয়েন সম্পূর্ণভাবে অফেরতযোগ্য। অর্থাৎ কেউ ভুল করে কোনো ওচেনা ঠিকানায় বিটকয়েন পাঠিয়ে দিলে তা আর ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়।
· বিটকয়েন এর লেনদেন প্রক্রিয়া কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে না। এবং প্রেরক-প্রাপক উভয়ের পরিচয়ই সম্পূর্ণরুপে গোপন থাকে। ফলে অনেক অপরাধমূলক বা খারাপ কাজে বিটকয়েন ব্যবহার করা সম্ভব।আবার অবৈধ পণ্যের কেনা বিক্রিতেও বিটকয়েন ব্যবহৃত হয়। ইন্টারনেটের ভয়াবহ গোপন অংশ ডার্ক ওয়েবে বা ডিপ ওয়েব সমস্ত লেনদেন হয় বিটকয়েনের মাধ্যমে।
· বিটকয়েনের মূল্য অনেকটাই অস্থিতিশীল। কখনো বিশাল পরিমাণে বাড়ে তো কখনো বিশাল ধস নামে।
বর্তমান বিশ্বে বিটকয়েনের মূল্য ও বাংলাদেশে এর অবস্থা
বিটকয়েন  চালু হওয়ার পর থেকে দিন দিন এর মূল্য বেড়েই যাচ্ছে। সেই ২০১১ সালে বিটকয়েনের বাজারমূল্য সর্বপ্রথম শুরু ০.৩০ ডলার থেকে এখন ৩২ ডলারে উঠে। এরপর আবার ২০১৩ সালে এই বিটকয়েনের দাম একেবারে উঠে যায় ২৬৬ ডলারে । এরপর এভাবে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বিটকয়েনের দাম তবে আবার ২০১৬ সালের শেষের দিকে এই দাম চলে আসে ৬০০ ডলারের উপরে এবং এরপর যত সময় গেছে বেরেছেই,  ২০১৭ সালে বিটকয়েনের দাম বেড়ে যায় রেকর্ড পরিমাণ এর উওর্দ্ধে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার ডলার করে বাড়তে বাড়তে থাকে,  এবং বছরের নভেম্বরে বিটকয়েনের দাম উঠে যায় অনেক ৯,০০০ ডলারের কাছাকাছি। আর চলতি এই ডিসেম্বর মাসেই এই দাম বেড়ে পরিণত হয় ১৫,০০০ ডলারেরও বেশিতে যা সত্যিই এক রেকর্ড পরিমান বা  অভূতপূর্ব একটি ঘটনা।


No comments

Theme images by luoman. Powered by Blogger.