চোখের বালি -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চোখের বালি
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিনোদিনী, আশা, মহেন্দ্র,বিহারি সাথে আছে রাজলক্ষ্মী এবং অন্নপূর্ণা।  চোখের বালি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসের বিষয় "সমাজ ও যুগযুগান্তরাগত সংস্কারের সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের বিরোধ"। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে "শেষের কবিতা" বাদে রবি ঠাকুরের অন্যে কোন উপন্যাস আসলে এতোদিন পড়া হয় নি। তার প্রথম কারন হলো,ধৈর্য্য এবং ভাষার সংমিশ্রণ বলা যায় ৷ শব্দগুলা এতোটাই ভিন্নধর্মী যে এক লাইন পড়ার পর সেটা বুঝার জন্যে আরো কয়েক মিঃ থেমে থাকতে হয়। রবী ঠাকুরের লেখার মধ্যে একটা ব্যাপার ভালো লাগে। এক একটা শব্দের ভিন্নমাত্রিক ব্যাবহার,বোধহয় আর কোন কবি করেন নাই।

 "চোখের বালি" উপন্যাস টি ভালো লাগার পিছনে কিছু কারন আছে। কয়েকটা লাইন আসলে না বললে লেখাটি পরিপূর্ণ হবে না। "সেই তিক্ত মৃত্তিকার স্নিগ্ধ গন্ধ বহন করিয়া চৈত্রের দক্ষিন বাতাস শুভ্র কুঞ্চিত সুবাসিত চাদরের প্রান্তকে দুর্দাম করিয়া তুলিতেছিল। ভালোবাসার অমূলক অভিযোগ লইয়া পরস্পরকে অপরাধ করা"। প্রতিটা লাইন বোধহয় এতো যন্ত করে লেখা যে,  না পড়লে আসলে বুঝা যাবে না।

ঘটনাপ্রবাহ এতো সুন্দর সাজানো যে, সংসারের সর্বময় কর্ত্রী মা, এক অনভিজ্ঞা বালিকাবধূ, এক বাল্যবিধবা ও তার প্রতি আকৃষ্ট দুই পুরুষ। এমন একজন বিনোদিনী কে সবাই পেতে চাইবে। কিন্তু কথায় আছে না, কিছু মানুষের ভাগ্যের কাটা সব সময় বিপরীতে ঘুরে। বিনোদিনী হিয়তো তেমনই।  শেষ একটা লাইন না বললে হয়তো পাপ হবে, ভোগসুখের এই ভয়ংকর অভিশাপ যে,সুখ অধিক দিন থাকে না, "কিন্তু বন্ধন দুশ্ছেদ্য  হইয়া উঠে"
এটা শত্যে...!



No comments

Theme images by luoman. Powered by Blogger.