দুধের গেলাশের মধ্যে নীল মাছি। --সৈয়দ শামসুল হক
দুধের গেলাশের মধ্যে নীল মাছি।
--সৈয়দ শামসুল হক
প্রথম পত্রাঙ্গনের মধ্যে ঠিক এইভাবেই লিপিবদ্ধ ছিল যে, "বিশাল কালো জলের উপর আমি ভ্যালায় ভেসে চলেছি।অনুরাধা তখনো আকাশে এবং হঠাৎ সেই ভেলা তীর বেঁধা কোন পাখির মতন বিকট নিঃস্বঙ্গ এক চিৎকার করে জল ছেরে লাফিয়ে উঠল আকাশে। আমি ছিটকে পরে যেতে যেতে আকরে ধরলাম"। একজন সব্যসাচী লেখক এর লেখা পড়লাম কালকে। সব্যসাচী মানে হলো, এমন লেখক যার মুটামুটি সাহিত্যের সব গুলো বিভাগেই পদচারণা রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর বেশ আলোচিত একজন লেখক "সৈয়দ শামসুল হক"। মুটামুটি সাধু-চলিত মিশ্রনে লিখিত এক গ্রন্থ। পড়তে গিয়ে খুব একটা সমস্যা হবে না। সব শব্দগুলোই মুটামুটি বুঝা যাবে। তারমধ্যে ইতিহাস নির্ভর বই পড়তে এমনিতেই আমার একটু বেশিই ভালো লাগে। শত মিথ্যার মধ্যে থেকে একগুচ্ছ বিশ্বাসি বুলি যদি পেতে চাই তাহলে ইতিহাসের পাতায় একটু চোখ বুলানো টা প্রশ্নবিদ্ধ হবে না, বৈকি? শিরোনাম টা কেমন অদ্ভুত তাই না? "নীল মাছি"। আসলেই কি কেউ দেখেছেন এই অদ্ভুত মাছি? হ্যা দেখা যায়, তবে কারো মধ্যে, কিছু মূহুর্তের জন্যে।বইটিতে পুরো লেখাটি, মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর ঐ কালো রাতের "অভিশপ্ত চন্দ্রের" ডুপে যাওয়া এবং সকালের তিব্র আলোকছটা নিয়ে সূর্য এবং কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটার আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যেকার।ওই সময়ে সংবাদ প্রচারের একটাই মাধ্যেম ছিল বিবিসি বাংলা। মানুষ কান পেতে থাকতো।ঠিক তখনই এই বইটি বিলেতের কোথাও বসে কেউ হয়তো লিখে যাচ্ছিল। বেশ সাবলীলভাবে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পিছনের কিছু ঘটনা বর্ননা করা হয়েছে৷ যেখানে কিছু ঘটনা এমন যে, দেখে আসলে কিছুটা চমকে যাওয়ার মতন! শেখ সাহেব যে, খুব বড় একটা কালো বৈশ্বিক রাজনীতির করোলে আবদ্ধ হতে যাচ্ছিলেন, সেটা প্রায় অনেকেই বুঝেছিল। তখন কার পশ্চিমা বিশ্ব কিন্তু শেখ সাহেব কে কখনোই চায়নি। তখন কার লিডার কিসিঞ্জারঃ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূদ্যয় কে তিনি ব্যাক্তিগত পরাজয় হিসেবেই গ্রহন করেছিলেন। তাই বলা যায়, সেই কালো রাতে এরাও একদল প্রার্থী ছিল।
পশ্চিমা বিশ্ব শেখ মুজিব কে এশিয়ার থ্রেড হিসেবেই বিবেচনা করেছিল। তবে একটা সময় শেখ মুজিব পশ্চিমাদের সাথে সুসম্পর্ক করতেও চেয়েছিল কিন্তু তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে।কতিপয় নিন্দিত জোটের শিকার সেদিন তিনি হয়েছিলেন৷ এবং শেষ নিশ্বাসও তিনি ত্যাগ করেছিলেন। লেখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে, শেষ একটা কথা হলো, সেদিন যখন শেখ মুজিব, ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সামনে ঘোষনা দেন যে,আমি শোষিতদের পক্ষে তখন কাস্ত্রো মুজিব কে জরিয়ে ধরে ছিলেন এবং বলে ছিলেন যে, ”আজ থেকে একটা বুলেট অহরহ তুমার পিছু নিবে"। এবং পরিসমাপ্তি টাও ঠিক এইভাবেই হলো, তবে সংখ্যাটা একটা থেকেও আরো কয়েকগুণ বেশিই ছিল। আমি তখন থেকে কিছু একটা কথা মনে করার চেস্টা করে যাচ্ছি যে, এ অভিযাত্রা অন্ধকার থেকে আলোয়,বন্দীদশা থেকে স্বাধীনতায়,নিরাশা থেকে আশার অভিযাত্রা। অবশেষে আমি নয় মাস পর আমার স্বপ্নের দেশ শোনার বাংলায় ফিরে যাচ্ছি। অনুরাধাটি এখনো আকাশে...!


No comments